Saturday, December 14, 2013

হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর প্রকাশিত কিছু বই

হুমায়ূন আহমেদ স্যার ছিলেন বিংশ শতাব্দীর বাঙ্গালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। 

হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর প্রকাশিত কিছু বই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম । আশাকরি ভালো লাগবে।

১) পাখিআমার একলা পাখি

১০) মানবী

১৩) কুহক

হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর ভক্ত দের জন্য facebook পেজ হুমায়ূন আহমেদ ও তার সাহিত্যকর্ম, আপনারা এখানে ধারাবাহিক ভাবে স্যার এর সকল বই এর .pdf ফাইল download Link পাবেন । Link পেতে ও হুমায়ূন আহমেদ এর সাহিত্য কর্ম সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে আমাদের সাথে like দিয়ে সম্পৃক্ত থাকুন

Friday, November 1, 2013

এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি – আবিদ আজাদ

এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
সেই কবিতাটি এক্ষুনি বাজেয়াপ্ত করা হবে
এক্ষুনি বেআইনি বলে ঘোষিত হবে সেই কবিতার
প্রতিটি শব্দ
প্রতিটি দাঁড়ি কমা
প্রতিটি সেমিকোলন
এক্ষুনি নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হবে সেই কবিতার প্রতিটি চরণ।
এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
তার জন্যে মুহূর্তের মধ্যে সারাদেশ জুড়ে নেমে আসবে আরো
একটি উত্থানের প্রাক-মুহূর্তের স্তব্ধতা
নেমে আসবে রাইফেলের নলের মতো
মৃত্যু -
আর সেই মৃত্যুর স্তব্ধতায় বাংলাদেশের আবহমান সবুজ রং
অন্ধকারের মতো কালো হতে হতে ভয়াল গর্জনে ফেটে পড়বে
সমুদ্রের মতো।
এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
তার জন্যে হঠাৎ বোমাবাজির পর
ভরদুপুরের ভীষণ ভৌতিক গলির মতো শান্ত হয়ে যাবে
আমাদের প্রিয়তম এই রাজধানী
বাজতে থাকবে চারিদিকে বুটের আওয়াজ
শুধু বুটের
আওয়াজ
এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
তার জন্যে নিমিষের মধ্যে সারা শহর জুড়ে শুরু হয়ে যাবে
খানাতল্লাশি
তার জন্যে আর্মি-ইন্টেলিজেন্স রুম থেকে বিমানবন্দরে ছড়িয়ে
দেওয়া হবে গোপন নির্দেশ
তার জন্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে বিমানের সমস্ত নির্দিষ্ট ফ্লাইট
তার জন্যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সারাদেশে জারি হয়ে যাবে
জরুরি অবস্থা -
এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
তার জন্যে এক্ষুনি দিকে দিকে এসে যাবে চেকপোষ্ট
এক্ষুনি শাহবাগের মোড়ে
টিকাটুলির তেমাথায়
ফার্মগেটের সামনে থামিয়ে দেওয়া হবে
সমস্ত চলন্ত বাস, কোচ আর কোস্টার
লাইন করে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে সমস্ত রিকশা ও ঠেলাগাড়ি
আর মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে খানাতল্লাশি
চেক করা হবে সারি সারি যাত্রীদের শরীর
চেক করা হবে মহিলার চামড়ার ব্যাগ
চেক করা হবে কিশোরের খেলনার বল
চেক করা হবে গাড়ির পাদানির নিচ থেকে কার্পেটের অতল অবধি
চেক করা হবে সাইকেলচারী যুবকের প্লাস্টিকের থলি
চেক করা হবে বেতার ভবনের গেটে ঘোষিকারকণ্ঠ
তরুণ কবির বুকপকেট,
বলপেনের দাগভরা আঙুলের ভাঁজ
কেরানীর খাতা
অধ্যাপকের উড়োচুল
কৃষকের কোঁচড়
শ্রমিকের চোখ
পোড়া গাঁর স্কুল
গঞ্জের ক্যানভাসারের গলা
হকারের বগল
গরু-পাইকারের খতি
বেশ্যাপাড়ার দাগী-খুনির লুঙ্গির গাঁট
সেন্ট্রাল জেলের সব সেল
রেশনকার্ডের পরতে পরতে
এমনকি মুদ্দাফরাশের জবানবন্দির ভেতরেও চলবে তল্লাশি
এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
তার গতি রোধ করতে গিয়ে সীমান্ত পুলিশের হাতে
ধরা পড়বে কয়েক লক্ষ টাকার গুঁইসাপের চামড়া
তার গতি রোধ করতে গিয়ে সীমান্তরক্ষীর হাতে
আটকা পড়বে তিন জন চোরাচালানি সহ কয়েক লক্ষ টাকার
বিদেশী শাড়ি
এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
তার জন্যে মুহূর্তের মধ্যে ছদ্মবেশে টহল দিতে শুরু করবে
পুলিশ ভ্যান
তার জন্যে তছনছ হয়ে যাবে ইউনিভার্সিটির হলগুলি
তার জন্যে প্রচন্ড সন্ধ্যাবেলা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের
টিভি রুমের ভিতর থেকে সন্দেহবশত ধরে নিয়ে যাবে
দুজন ছাত্রকে
তার জন্যে বস্তিতে বস্তিতে আগুনের মতো
লেলিয়ে দেওয়া হবে গুন্ডাপান্ডা -
এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
সেই কবিতাটি যখন পড়বে কোনো এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা
আমি জানি তার ব্যর্থ কাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে তখন অসমাপ্ত
মুক্তিযুদ্ধ ফেলবে দীর্ঘশ্বাস
সেই কবিতাটি যখন পড়বেন চশমার-কাচ-ফাটা গ্রামের কোনো
এক প্রৌঢ় স্কুল মাস্টার
আমি জানি তার শূন্য চোখের সামনে তখন ভেসে উঠবে
এক শীতের ভোরে শিমুলগাছের নিচে উদ্ধার-করা হঠাৎ
নিখোঁজ হয়ে-যাওয়া তার ছেলের লাশ -
সেই কবিতাটি যখন পড়বে কোনো এক কলেজ ছাত্রী
আমি জানি তখন তার মনে পড়বে প্রেমিকের উষ্ণ চুম্বনের ভিতরে
আবিস্কার করা
প্রথম পৃথিবী প্রদক্ষিণের আলোড়ন নয়
তার মনে পড়বে পলায়নপর এক যুবকের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের
কথা -
সেই কবিতাটি যখন পড়বেন কোনো চল্লিশোত্তীর্ণ মহিলা
আমি জানি তার বিগত দিনের পশমকাঁটায় তখন জেগে উঠবে আকণ্ঠ
পরিতাপ
সেই কবিতাটি যখন পড়বেন কোনো এক বজ্জাত অধ্যাপক
আমি জানি তখন তার মনে পড়বে তার হওয়ার কথা ছিল পুলিশ
কিন্তু তিনি হয়ে গেছেন অধ্যাপক -
সেই কবিতাটি যখন পড়বেন কোনো এক পত্রিকার সম্পাদক
আমি জানি তখন ঘুমের মধ্যে তার মাথার ভিতর থেকে বেরিয়ে
আসবে একটি ছায়ামূর্তি
আর তার মনে পড়বে তার হওয়ার কথা ছিল সওদাগরি
অফিসের অ্যাকাউন্টেন্ট
কিন্তু তিনি হয়ে গেছেন সম্পাদক
এখন যে কবিতাটি লিখব আমি
তার জন্যে দৈনিক পত্রিকাগুলোর নাইট শিফটের টেবিলে টেবিলে
গুঞ্জরিত হয়ে ফিরবে চাপা গুঞ্জন
তার জন্যে চাকরি যাবে তথ্য সচিবের
তার জন্যে আপন পদে ইস্তফা দিতে হবে তথ্যমন্ত্রীকে
এখন যে কবিতাটি লিখব আমি
তার জন্যে অপেক্ষা করছে
দুটো লোহার ঠান্ডা হাতকড়া
তার জন্যে অপেক্ষা করছে
একটি ঘাতক ছুরি
তার জন্যে অপেক্ষা করছে
ভাড়া করা গুন্ডাদের একটি কালো গাড়ি
তার জন্যে অপেক্ষা করছে
উচ্চাভিলাষী কয়েক জন জেনারেলের ষড়যন্ত্রের
একটি নির্মম নির্জন মধ্যরাত্রি -
এখন যে কবিতাটি লিখব আমি
তার জন্যে আমার সন্তানের জন্মের যন্ত্রণা মুখে নিয়ে
আমার প্রিয়তমা নারীর মতো
অপেক্ষা করছে আমার বাংলাদেশ॥

Monday, September 23, 2013

ঘুম গাড়ি - দীপ নেভার আগে

চার পায়ার ওই ঘুমের গাড়ি
আসমান ভরা জোছনার তরী
পাল ভিড়াইয়্যা উঠানে মোর
সাদা জোছনার চাদর পরি (২)

শুইয়্যা একজন আজ দিবে পাড়ী
রাইখা স্বাদের বসত বাড়ী (২)
স্বাধের সংসার পিছে থুইয়্যা
আজ দেবে পাড়ী (২)
চার পায়ার ওই ঘুমের গাড়ি
আসমান ভরা জোছনার তরী
পাল ভিড়াইয়্যা উঠানে মোর
সাদা জোছনার চাদর পরি

ঘুম গাড়ি তোর যায়রে চইলা
আট পায়েতে কইরা ভর
আট কুঠুরী নয় দরজা
বন্ধ হইল চিরতর (২)

জমিন আছে ছাদ যে তাহার নাই
সাড়ে তিন হাত কইরা মাটির ঠাই (২)
প্রাসাদ ছাইড়া কেমনে শুইলা মাটির ঘুম ঘরে
হায় রে
প্রাসাদ ছাইড়া কেমনে শুইলা মাটির ঘুম ঘরে

চার পায়ার ওই ঘুমের গাড়ি
আসমান ভরা জোছনার তরী
পাল ভিড়াইয়্যা উঠানে মোর
সাদা জোছনার চাদর পরি (২)

Saturday, August 31, 2013

এক আল্লাহ জিন্দাবাদ - কাজী নজরুল ইসলাম

উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ;
আমরা বলিব সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ।
উহারা চাহুক সংকীর্ণতা, পায়রার খোপ, ডোবার ক্লেদ,
আমরা চাহিব উদার আকাশ, নিত্য আলোক, প্রেম অভেদ।

উহারা চাহুক দাসের জীবন, আমরা শহীদি দরজা চাই;
নিত্য মৃত্যু-ভীত ওরা, মোরা মৃত্যু কোথায় খুঁজে বেড়াই!
ওরা মরিবেনা, যুদ্ব বাধিঁলে ওরা লুকাইবে কচুবনে,
দন্তনখরহীন ওরা তবু কোলাহল করে অঙ্গনে।

তারা বলে, যদি প্রার্থনা মোরা করি তাঁর কাছে এক সাথে,
নিত্য ঈদের আনন্দ তিনি দিবেন ধুলির দুনিয়াতে।
সাত আসমান হতে তারা সাত-রঙা রামধনু আনিতে চায়,
আল্লা নিত্য মহাদানী প্রভূ, যে যাহা চায়, সে তাহা পায়।

মোদের অভাব রবে না কিছুই, নিত্যপূর্ণ প্রভূ মোদের,
শকুন শিবার মত কাড়াকাড়ি করে শবে লয়ে-- শখ ওদের!
আল্লা রক্ষা করুন মোদেরে, ও পথে যেন না যাই কভূ,
নিত্য পরম-সুন্দর এক আল্লাহ্ আমাদের প্রভূ।

দাঙ্গা বাঁধায়ে লুট করে যারা, তার লোভী, তারা গুন্ডাদল
তারা দেখিবেনা আল্লাহর পথ চিরনির্ভয় সুনির্মল।
ওরা নিশিদিন মন্দ চায়, ওরা নিশিদিন দ্বন্দ চায়,
ভূতেরা শ্রীহীন ছন্দ চায়, গলিত শবের গন্ধ চায়!

বিশ্বাস করো এক আল্লাতে প্রতি নিঃশ্বাসে দিনে রাতে,
হবে দুলদুল - আসওয়ার পাবে আল্লার তলোয়ার হাতে।
আলস্য আর জড়তায় যারা ঘুমাইতে চাহে রাত্রিদিন,
তাহারা চাহে না চাঁদ ও সূর্য্য, তারা জড় জীব গ্লানি-মলিন।

নিত্য সজীব যৌবন যার, এস এস সেই নৌ-জোয়ান
সর্ব-ক্লৈব্য করিয়াছে দূর তোমাদেরই চির আত্বদান!
ওরা কাদা ছুড়ে বাঁধা দেবে ভাবে - ওদের অস্ত্র নিন্দাবাদ,
মোরা ফুল ছড়ে মারিব ওদের, বলিব - "এক আল্লাহ জিন্দাবাদ"।

Saturday, July 13, 2013

তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো

ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
আমরা আর পাব না, আর পাব না।
"তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না" (২)
ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর পাবো না 
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর পাবো না
না না না আর পাবো না
"তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না "(২)

ভূবনো মোহনো গোরা, কোন মণিজনার মনোহরা
মণিজনার মনোহরা 
ওরে রাধার প্রেমে মাতোয়ারা চাঁদ গৌড়
ধূলায় যাই ভাই গড়াগড়ি
যেতে চাইলে যেতে দেবো না, না না না। (২)
যেতে দেবো না।
তোমায় হৃদয় মাঝে...... 
তোমায় হৃদয় মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।

"যাবো ব্রজের কুলে কুলে" (২)
আমরা মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
ওরে পাগল মন...
যাবো ব্রজের কুলে কুলে 
মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
"ওরে নয়নেতে নয়ন দিয়ে রাখবো তারে" (২)
চলে গেলে... চলে গেলে যেতে দেবো না, 
না না... যেতে দেবো না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।

যে ডাকে চাঁদ গৌড় বলে, ওগো ভয় কিগো তার ব্রজের কুলে
যে ডাকে চাঁদ গৌড় বলে, ভয় কিগো তার ব্রজের কুলে
ভয় কি তার ব্রজের কুলে
"ওরে দ্বিজ ভূষণ চাঁদ বলে" (২)
চরন ছেড়ে দেবো না, না না না......
ছেড়ে দেবো না
তোমায় বক্ষ মাঝে......
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর পাবো না
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় 
আর পাব না না না না, আর পাব না।
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না 
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় হৃদ মাঝারে...

Monday, July 8, 2013

আমি


আমি মোঃ শাহিদুল্লাহ রায়হান Stamford University Bangladesh এর B.Sc. in Civil Engineering বিভাগ এর ছাত্র।। ১০ আক্টবর ১৯৯১ সালে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়াতে আমার জন্ম। আন্ধারমানীক নদী বিধৌত এই ছোট পৌরশহরটি, আন্ধারমানীক এর তীরে ঘুড়ি উড়িয়ে, ক্রিকেট খেলে বড় হোয়েছি, অসম্ভব সুন্দর একটা নদী এই আন্ধারমানীক। ভালোলাগে গান শুনতে; রক, ফোক, পপ সব ধরনের গানই শুনি, রবীন্দ্র সংগীত ও লালন গীতি আমাকে অন্য ভাবে টানে। ভ্রমন করতে ভালো লাগে, তাই সুযোগ পেলেই বেড়িয়েপরি দেশ ভ্রমণে, সাগরের ঢেউ এর গর্জন সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় এর সৌন্দর্য আমাকে পুলকিত করে তাই কুয়াকাটা ছুটে যাই ছুটি পেলেই, গ্রাম ভালো লাগে, গ্রামের মেঠোপথ ধরে হাটতে ভালোলাগে, নদীতে মাছ ধরতে পুকুরে সাঁতার কাটতে ভালোলাগে, জোছনা রাত ভাললাগে, বৃষ্টি ভাললাগে, রাতে হ্যালোজেন লাইট এর আলোতে হাটতে ভালোলাগে। আসলে আমি সৌন্দর্যের পূজারী সৌন্দর্যের সন্ধান করি।
বাবা, মা, ছোট ভাই ও আমি এই নিয়ে আমাদের ছোট পরিবার। বাবা স্কুল শিক্ষক, মা গৃহিণী। আমার ধারনা মা পৃথিবীর শ্রেষ্ট রাঁধুনিদের একজন, মার রান্না করা সর্ষে ইলিশ আমার খুব পছন্দ, বাবা অত্যন্ত ভালো ও সৎ মানুষ।
হুমায়ূন আহমেদ স্যার এর গল্প, উপন্যাস, লেখা গান আমার খুব পছন্দ। মূলত আমি একজন হুমায়ূন ভক্ত তার সৃষ্ট চরিত্র হিমু ও মিসির আলী আমার জীবনের একটা বড় অংশজুড়ে অবস্থান করছে, নিজেকে মাঝে মাঝে  হিমু ও মিসির আলী ভাবতে ভালো লাগে। ভাবতে ভালো লাগে যদি আমারও “রূপা”-র মতো একজন ভালবাসার মানুষ থাকত, যে আমাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসবে। জাফর ইকবাল স্যার এর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ও আনিসুল হক এর বই পড়ি, ফেলুদা সিরিজ পড়ার সময় গল্পের কাহিনীর একটা আংশ হোয়ে যাই। আবৃতি করতে ও মাহেদুল ইসলাম এর আবৃতি শুনতে ভাললাগে, জীবনানন্দ দাশ এর বনলতে সেন, আবু জাফর অবায়দুল্লাহ এর কোন এক মাকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দুই বিঘা জমি, সুনিল গঙ্গোপাধ্যায় এর কেউ কথা রাখেনি কবিতাগুলো পরতে ভালো লাগে। ভালো লাগার মানুষদের কাছেকাছি থাকতে ও কাছেকাছি রাখতে চেষ্টা করি।
স্কুল ও কলেজ জীবনের কাটানো সময়গুলোর কথা খুব মনে পরে। তখনকার বন্ধুদের অভাব খুব আনুভাব করি, ওদের সবার সাথে এখন আর যোগাযোগ নাই।

সৎ ও সুন্দর জীবন এর স্বপ্ন দেখি, দেশটা অনেক সুন্দর ও সমৃদ্ধ হোক এই আশা করি, অন্যায় থেকে দূরে থাকবার চেষ্টা করি, মিথ্যা কথা বলা আমি খুবই অপছন্দ করি, ফুটপাথে যারা ঘুমায় ওদের জন্য মন কাঁদে ওদের জন্য কিছু করতে ইচ্ছে করে। 

Sunday, July 7, 2013

২১ শে ফেব্রুয়ারি

১৯৫২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ২৭ শে জানুয়ারি পল্টন ময়দানের এক জনসভায় দীর্ঘ ভাষণ দেন তিনি মূলত জিন্নাহ কথারই পুনরুক্তি করে বলেন,”পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।ভাষা আন্দোলন জোরালো হওয়ার পেছনে ২৭ তারিখ এর এই ভাষণকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে ধরা যায়। সরাসরি রেডিওতে সম্প্রসারিত এই ভাষণে তিনি আরো বলেন,”কোন জাতি দুটি রাষ্ট্রভাষা নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে না।
এই বক্তৃতার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিশোধ ২৯শে জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা এবং ৩০শে জানুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালন করে। সেদিন ছাত্র নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমবেত হয়ে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট প্রতিবাদ সভা এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি সারা প্রদেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
২১শে ফেব্রুয়ারী সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ সভাস্থলের চারদিক ঘিরে রাখে। বেলা সোয়া এগারটার দিকে ছাত্ররা গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রাস্তায় নামতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস বর্ষণ করেউপাচার্য তখন পুলিকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ বন্ধ করতে এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ছাত্ররা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিস গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ছাত্ররা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিক্ষোভ পুনরায় শুরু করে।
বেলা ২টার দিকে আইন পরিষদের সদস্যরা আইনসভায় যোগ দিতে এলে ছাত্ররা তাদের বাধা দেয় এবং সভায় তাদের দাবি উত্থাপনের দাবি জানায়। পরবর্তিতে ছাত্ররা আইন সভায় গিয়ে তাদের দাবি উত্থাপন  সেই উদ্দেশ্যে রওনা করলে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ ছাত্রাবাসে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশের গুলি বর্ষণে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়াও আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরও অনেকে সে সময় নিহত হন।
 
ছাত্র হত্যার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন জনমানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়। রেডিও শিল্পীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শিল্পী ধর্মঘট আহবান করেন।
এই সময় গণপরিষদে অধিবেশন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের গুলির খবর জানতে পেরে মাওলানা তর্কবাগিশসহ বিরোধি দলীয় বেশ কয়েকজন অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ান। গণপরিষদে‌ বেশ কজন সদস্য মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে হাসপাতালে আহত ছাত্রদের দেখতে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং শোক প্রদর্শনের লক্ষ্যে অধিবেশন স্থগিত করার কথা বলেন। যদিও নুরুল আমিন অন্যান্য নেতাদের অনুরোধ রাখেননি এবং অধিবেশনে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ২৩ ফেব্রুয়ারির রাত শেষে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু করে। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন। উদ্বোধনের দিন পুলিশ প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে। এরপর ঢাকা কলেজেও একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়, এটিও সরকারের নির্দেশে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণের ঘটনার পর, একুশ নিয়ে প্রথম গান লেখেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। গানটি হল, "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।" প্রথমে আব্দুল লতিফ সুর দেন। পরে করাচী থেকে ঢাকা ফিরে ১৯৫৪ সালে আলতাফ মাহমুদ আবার নতুন সুর দন। বেলা ১১ টার দিকে ৩০ হাজার লোকের একটি মিছিল কার্জন হলের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ তাদের উপর গুলিবর্ষণ করে। এই ঘটনায় সরকারি হিসেবে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ সালে। সংবিধানের ২১৪(১) অধ্যায়ে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে লেখা হয়:
"214.(1) The state language of Pakistan shall be Urdu and Bengali"
অর্থাৎ উর্দু এবং বাংলা হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।